পোষ্যেরই ধরিয়ে দিলো ডাকাতির ঘটনায় অভিযুক্তদের - The News Lion

পোষ্যেরই ধরিয়ে দিলো ডাকাতির ঘটনায় অভিযুক্তদের

 


দি নিউজ লায়ন;  হাওড়ায় গৃহকর্ত্রীকে বেঁধে রেখে দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনার কিনারা করল পুলিশ। এই ঘটনায় বাড়ির পোষ্যের অস্বাভাবিক আচরণ তদন্তে সাহায্য করল পুলিশকে। গত ২৫ জুন হাওড়া ব্যাঁটরা থানা এলাকার হৃদয়কৃষ্ণ ব্যানার্জী লেনে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ওই দুঃসাহসিক ডাকাতি হয়েছিল। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে ডাকাতির সময় বাড়ির পোষা কুকুর কোনওরকম চিৎকার করেনি। 


পোষ্যের এমন 'অস্বাভাবিক' আচরণ তদন্তকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে পুলিশকে। কুকুরের এহেন আচরণ দেখে পুলিশের বুঝতে অসুবিধা হয় না যারা ডাকাতি করেছে তারা ওই বাড়ির কোনও না কোনও পরিচিত ব্যক্তি। সেই সূত্র ধরেই তদন্তে নামে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয় ধর্মেন্দ্র দাস (৩৪) এবং শুভজিৎ সামন্ত (২৬)কে। তারা দুজনেই কাজের জন্য একাধিকবার ওই বাড়িতে এসেছিল বলে পুলিশ জানতে পারে। যাদের বাড়ি ডাকাতি হয়েছে সেই গৌতম পালের হাওড়াতেই একটি নামী ডায়াগনস্টিক সেন্টার আছে। ধর্মেন্দ্র ছিলেন সেখানকার অ্যাম্বুলেন্স চালক। 


অপর ধৃত সুভজিৎ সামন্ত ওই ডায়াগনস্টিক ল্যাবে সিটি স্ক্যানের কাজ করতেন। কাজের সূত্রে অনেকবারই গৌতম পালের বাড়ি গিয়েছেন অভিযুক্তরা। সেই সূত্রে বাড়ির কুকুরটি চিনত তাদের দু'জনকেই। পুলিশ আরও জানিয়েছে, ধর্মেন্দ্রর বাড়ি ওড়িশায়। সে এই ডাকাতির জন্য ওড়িশা থেকে দুই আত্মীয়কে এখানে নিয়ে এসেছিল। বর্তমানে তারা এখন পলাতক। তাদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। পুলিশের দাবি সিসিটিভি অভিযুক্তদের গতিবিধি জানতে সাহায্য করেছে। কিন্তু তদন্ত করেই ধরা হয়েছে অভিযুক্তদের। এই তদন্তে ডাকাতির সময় কুকুরের এই অস্বাভাবিক আচরণের ঘটনা পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে। সেটাই তদন্তের কাজে অনেকটা সাহায্য করেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। 


উল্লেখ্য, ২৫ জুন  বিকেলে মধ্য হাওড়ার  ব্যাঁটরার হৃদয়কৃষ্ণ ব্যানার্জি লেনের একটি তিনতলা বাড়িতে দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটে।  অভিযোগ, ওইদিন বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ হঠাৎ দুই যুবক দরজা খুলে বাড়িতে ঢুকে বাড়ির গৃহকত্রীকে বেঁধে তাঁর গলায় ভোজালি ঠেকিয়ে লক্ষাধিক টাকার গয়না নিয়ে চম্পট দেয়। মারধর ও শরীরে ধারালো অস্ত্র ঠেকানোয় আহতও হন গৃহকর্ত্রী।  প্রায় আধ ঘন্টা ধরে তান্ডব চালায় দুষ্কৃতিরা। সেইসময় তাঁর স্বামী গৌতম পাল ও ছেলে সম্রাট ছিলেন তাঁদের ডায়গনস্টিক সেন্টারে। খবর পেয়ে তাঁরা বাড়ি আসেন। পরে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন পাল দম্পতি।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.